Saturday, 30 April 2016

“বড় দুর্নীতি”, সিভিক পুলিশ নিয়োগে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের

সিভিক পুলিশ নিয়োগে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের রাজ্যে সিভিক পুলিশ নিয়োগে স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আজ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় সিভিক পুলিশ নিয়োগে ৯ মে পর্যন্ত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের নির্দেশ দেন। সিভিক পুলিশ নিয়োগ নিয়ে স্থগিতাদেশ দেওয়ার আগে বিচারপতি বলেন, এটা একটা বড় দুর্নীতি।

২০১৩ সালে রাজ্যজুড়ে ১ লাখ ২০ হাজার সিভিক পুলিশ নিয়োগের জন্য রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। সেই অনুযায়ী প্রার্থীদের প্যানেল তৈরি করে রাজ্য সরকার। এরপর ওই প্যানেলে অস্বচ্ছতা রয়েছে বলে অভিযোগ করে হাইকোর্টে মামলা করেন বাঁকুড়ার ১০ চাকরি প্রার্থী।

তাঁদের অভিযোগ, প্যানেল তৈরির আগে রাজ্য সরকার কোনও লিখিত পরীক্ষা নেয়নি। ফলে ওই প্যানেলে অস্বচ্ছতা রয়েছে।

আজ মামলার শুনানির সময় সিভিক পুলিশ নিয়োগকে বড় দুর্নীতি বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি। সিভিক পুলিশ নিয়োগ নিয়ে ৯ মে-র আগে রাজ্য সরকারকে হলফনামা দিতে নির্দেশ দেন তিনি। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ৯ মে।
source-http://bangla.eenaduindia.com/

Thursday, 2 July 2015

২ লক্ষ সরকারি কর্মী নিয়োগ, সিভিক ভলান্টিয়ারদের দ্বিগুণ বেতন, ভোটের আগে 'কল্পতরু' মমতা

[ কলকাতা:Updated: Tuesday, 30 June 2015 1:16 PM ] ভোটের আগে ২ লক্ষ সরকারি কর্মী নিয়োগের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। সিভিক ভলান্টিয়ারদের মাইনে বাড়িয়ে করা হল দ্বিগুণ। ভোটের আগে মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা। অভিযোগ বিরোধীদের।
পুজোর আগেই হতে পারে পুরভোট। আর বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। দুই ভোটের মুখে দাঁড়িয়েই কল্পতরু রাজ্য সরকার। ২ লক্ষ কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত। একইসঙ্গে প্রায় দ্বিগুণ করে দেওয়া হল সিভিক ভলান্টিয়ারদের বেতন। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রশাসনে লোকবল বাড়াতে, ২ লক্ষ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ করা হবে। শিক্ষক করা হবে ৭০ হাজার শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘৭০ হাজার শিক্ষক। ১০ শতাংশ প্যারাটিচারদের জন্য। ৬০ হাজার গ্রুপ ডি। ৬০ হাজার গ্রুপ সি।’ শুধু তাই নয়! সিভিক ভলান্টিয়ারদের জন্যও ঝুলি উপুড় করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। বলেন, ‘২৮০০ বেড়ে ৫৫০০ সিভিক ভলেন্টিয়ার। নো ওয়ার্ক নো পে ছিল। ১৪ দিন ছুটি। হোমগার্ড।’
বিরোধীদের অভিযোগ, গত চারবছরে উন্নয়নের দেখা নেই, তাই ভোটের আগে চাকরি দিয়ে-বেতন বাড়িয়ে রাজ্যবাসীকে বোকা বানাতে চাইছে তৃণমূল। বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ থেকে বিরোধীদের উপর সন্ত্রাস। সম্প্রতি একের পর এক অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে। সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহলে। বিরোধীদের দাবি, সেই বিতর্কের প্রভাব যাতে ভোটবাক্সে না পড়ে, তার ব্যবস্থা করতেই রাজ্য সরকারের এই কল্পতরু রূপ!
source- http://abpananda.abplive.in/india-news/ahead-of-next-years-assembly-election-mamata-declares-2-lakh-new-govt-jobs-pay-hike-127814

Saturday, 11 January 2014

চার মাসের জন্য লক্ষ সিভিক পুলিশ নিয়োগ

[২৬ পৌষ ১৪২০ শনিবার ১১ জানুয়ারি ২০১৪] ভোটের আগে চার মাসের জন্য লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান। তার পিছনে রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে বেরোবে দু’শো কোটি টাকার বেশি। কিন্তু তাতে আখেরে লাভ কী হবে, সেই প্রশ্ন উঠে পড়েছে সরকারেরই অন্দরে।
সামনে লোকসভা ভোট। তার আগে দৈনিক পারিশ্রমিক ভিত্তিতে চার মাসের জন্য ১ লক্ষ ৩০ হাজার সিভিক পুলিশ নিয়োগ করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, যার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২২১ কোটি টাকা। নিয়োগের ফাইল মুখ্যমন্ত্রীর অফিসের অনুমোদন পেয়ে গিয়েছে। নবান্ন-সূত্রের খবর, গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র দফতর সব জেলার এসপি-কে নির্দেশ দিয়েছে, চলতি মাসেই নতুনদের নিয়োগ করে কাজে লাগাতে হবে, এবং মাসে অন্তত কুড়ি দিন কাজ দিতেই হবে।
অর্থাৎ, ভোটের সময়কাল (মে মাস) পর্যন্ত লক্ষাধিক মানুষের জন্য উপার্জনের বন্দোবস্ত। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনেরই একাংশে। তাদের বক্তব্য, এত খরচ করে চার মাসের জন্য সিভিক পুলিশ নিয়ে পুলিশবাহিনীর আদতে লাভ হবে না।
কেন? এই মহলের যুক্তি: টাকার অভাবে যেখানে বেশ ক’টি নতুন থানা তৈরির প্রস্তাব কার্যকর করা যাচ্ছে না, পুলিশে স্থায়ী নিয়োগ কার্যত স্তব্ধ, এবং বহু থানা পরিকাঠামোর অভাবে ধুঁকছে, সেখানে কিছু প্রশিক্ষণহীন লোকজনকে দৈনিক পারিশ্রমিক দিতে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দের অর্থ নেই। উৎসব-পার্বনে যানশাসন বা বিশেষ ক্ষেত্রে ভিড় সামলানো ছাড়া ওঁদের দিয়ে পুলিশবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা হবে না বলে এই মহলের দাবি। এক জেলার এসপি-র কথায়, “অস্থায়ী সিভিক পুলিশ হিসেবে এখন যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের ট্র্যাফিক ছাড়া অন্য কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ন্যূনতম পুলিশ ট্রেনিং না-থাকায় রোজকার আইন-শৃঙ্খলার কাজেও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ওঁদের অধিকাংশ কার্যত দিনভর থানাতেই বসে থাকছেন।”
এমতাবস্থায় বিনা তালিমের আরও লক্ষাধিক সিভিক পুলিশ নিয়োগের যৌক্তিকতা কী, প্রশাসনের অনেকে তা বুঝতে পারছেন না। নতুন লোকজনকে অন্য কোনও কাজে লাগানো যাবে, এমন ইঙ্গিতও নেই। বরং স্বরাষ্ট্রের বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার বলা হয়েছে, নতুনদেরও ব্যবহার করা হবে শুধু উৎসবের সময়ে ও যানশাসনে।
স্বরাষ্ট্র-সূত্রের খবর: অর্থ দফতর বছরখানেক আগে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি কমিশনারেটে ৫১০০ সিভিক পুলিশ নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছিল। তখনই প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে এক জন করে, মোট ৩৩৫১ জন ভিলেজ পুলিশ নিয়োগ করেছিলেন জেলার । পাহাড়েও ছ’শো সিভিক পুলিশ নেওয়া হয়। রাজ্য প্রশাসনের এক কর্তা জানান, এক জন সিভিক পুলিশকে ১৪১ টাকা ৮৫ পয়সা দৈনিক পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। ভিলেজ পুলিশপিছু দৈনিক বরাদ্দ ২৪০ টাকা। সব মিলিয়ে তাঁদের পিছনে রাজ্যের বার্ষিক ব্যয় বছরে ৫৮ কোটি টাকা।
এ বার এক ধাক্কায় বরাদ্দ বেড়ে দাঁড়াল ২২১ কোটি টাকা, তা-ও চার মাসের জন্য। প্রশাসনের একাংশের দাবি, মূলত লোকসভা ভোটের জন্য এ ভাবে একলপ্তে ১ লক্ষ ৩০ হাজার ছেলেকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাই তাদের কাজের মেয়াদ বেঁধে দেওয়া হয়েছে স্রেফ চার মাস!
বস্তুত যোগ্য কর্মী ও পরিকাঠামোর অভাবে পুলিশের হাল বেহাল। রাজ্য পুলিশ-সূত্রের খবর: থানায় থানায় বকেয়া তদন্তের পাহাড়। তদন্তের মূল দায়িত্ব যাঁদের, সেই এসআই-এর সংখ্যা কমতে কমতে এমন জায়গায় এসেছে যে, এক-এক জনের ঘাড়ে গড়ে ৫০-৬০টি মামলার ভার! মাস ছয়েক আগে অর্থ দফতর চারশো এসআই নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে বটে, কিন্তু প্রশিক্ষণ সেরে তাঁদের থানায় মোতায়েন করতে আরও কম করে এক বছর। এই এক বছরে অন্তত দেড়শো জন অবসর নেবেন।
ফলে সমস্যা বাড়বে বলেই মত পুলিশ-কর্তাদের অনেকে। ওঁদের হিসেবে, বর্তমানে এসআইয়ের সংখ্যাই অনুমোদিত পদের চেয়ে ১৬০০ কম। মহিলা এসআইয়ের অবস্থা আরও করুণ। রাজ্যে ৯২ জন মহিলা তদন্তকারী অফিসার। নয়া দশটি মহিলা থানার প্রস্তাব বহু দিন ফাইলবন্দি স্বরাষ্ট্র দফতরে। এক স্বরাষ্ট্র-কর্তা বলেন, “এসআইদের উপরে মামলার চাপ কমাতে ২০১০-এ প্রশাসনিক নির্দেশবলে এএসআই-কেও তদন্তের ক্ষমতা দিয়েছিল বাম সরকার। কিন্তু অধিকাংশ ওসি এএসআইদের দায়িত্ব দিতে চাইছেন না।”
অর্থাভাবে কিছু থানা ভাগের প্রস্তাবও আটকে। প্রশাসনের এক কর্তার মন্তব্য, “সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল, ২০১৪-র মধ্যে ৬৯টি নতুন থানা হবে। গত অর্থবর্ষে দশটার বেশি করা যায়নি।” নবান্নের খবর, রাজ্য পুলিশের ডিজি জিএমপি রেড্ডি সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র দফতরে ৩২টি থানার তালিকা পাঠিয়েছেন। পুরনো থানা ভেঙে নতুন করে সেগুলো তৈরি হওয়ার কথা। অথচ দেখা যাচ্ছে, এক-একটায় ১৯-২০ জনের বেশি লোক দেওয়া যাচ্ছে না। সুতরাং সেই প্রস্তাবও আপাতত বিশ বাঁও জলে। এ হেন পরিস্থিতিতে চার মাসের জন্য এক টাকা খরচ করে অস্থায়ী নিয়োগের পরিবর্তে সরকার পুলিশে স্থায়ী শূন্য পদ পূরণের পথে হাঁটলে অন্তত নিচুতলায় অনেকটা সমস্যার সমাধান হতো বলে পুলিশ-কর্তাদের একাংশ আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। সরকারের কী বক্তব্য?
স্বরাষ্ট্র-কর্তারা বিষয়টিকে এ ভাবে দেখতে নারাজ। তাঁদের দাবি: বিভিন্ন শূন্য পদে স্থায়ী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কাজটা সময়সাপেক্ষ। এর সঙ্গে অস্থায়ী সিভিক পুলিশ নিয়োগের কোনও সম্পর্ক নেই।
source - http://archives.anandabazar.com/archive/1140111/11raj3.html